Wednesday, March 30, 2011

বর্ণমালা -উ

পড়ো
-তে
উট চলেছে মরুর দেশে
মরুর দেশ !!!
হায় বাংলা-
৭১ এ সে কি মরু ছিলো-নাকি ছিলো মৃত্যু উপত্যকা
ভাবতে কি পেরেছিলো কেউ?
কেউ কি চোখের সামনে এত রক্ত দেখে স্থির থাকতে পেরেছিলো?
পারেনি
কারণ ওরা শেয়াল ও শুকুনের খাদ্য বানিয়ে ছেড়েছিলো সোনার বাংলা
ওরা শুধু হ্ত্যা করেছিলো
মরুভুমি বানিয়ে দিয়েছিলো বাংলা
এবং তারা হ্ত্যা করেছিলো তোমার পূর্বপুরুষদের
যারা মুক্তি চেয়েছিলো
যারা একটি ফুলকে ভালবেসে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলো
তাদের অনেকেই ফিরে আসেনি

যারা ফিরে এসেছে তারা বয়ে নিয়ে এসেছে স্বজনের লাশ
এত মৃত্যুও হানাদার দের শান্ত করেনি
তাই তারা তোমাদেরই পুর্বপুরুষের মা বোন দের ঈজ্জ্বত নিয়ে
খেলেছিলো হোলি খেলা
যার ফলাফল ২ লাখ বীরান্গনা
সাথে অগনিত অনেকেই
তাদের কেউ কেঁদেছিলো
কেউ গলায় পড়েছিলো মুক্তির ফাঁস
কেউ মুখ লুকিয়ে বিষখেয়ে মরেছিলো রাতের আঁধারে
সোনার বাংলা নয়মাসেই হয়ে উঠেছিলো মৃত্যুপুরী
তাই আজ আমি বলি
উঠ আমি দেখিনি
তবে আমি মরু দেখেছি
আমি সোনার বাংলায় মরুর দেশ দেখেছি।।

Tuesday, March 29, 2011

বর্ণমালা-ঈ

পড়ো-
ঈগল পাখি গাছের 'পরে


কিন্তু ওরা একদিন ঈগলের মত নেমে এসেছিলো ধরনীতে
এবং ওদের পেছনে ছিলো দৃশ্যপরিচালনাকারীর আদেশ
"হত্যা করো"
এবং ওরা হত্যা করতে শুরু করেছিলো
মাটিতে অজগর হয়ে
আকাশে ঈগল হয়ে

ফেলে ছিলো একেরপর এক বোমা
যারা ফেটেছিলো স্বশব্দে
এবং ফেটেছিলো ভয়ানক শক্তিতে
যারা নিরীহ ছিলো
যাদের কোন দোষ ছিলোনা
তারা আক্রান্ত হয়েছিলো
তাদের মাঝে হয়তো ছিলো তোমার ও পূর্বপূরুষ
এবং তারা মরতে মরতে সংখ্যায় হয়েছিলো
ত্রিশ লাখ
এবং তাদের গননার আগেই
দৃশ্যপরিচালনাকারীর অদৃশ্য আদেশে
অজগরেরা ওদের পুঁতে ফেলেছিলো মাটিতে
মিশিয়ে দিতে চেয়েছিলো বাংলার নাম

এবং ওরা পারেনি
কারণ একজন বীরশ্রেষ্ট মতিউর ওদের
সেই ঈগলের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলো
কিন্তু মতিউর মরেছিলো
মতিঊর যুদ্ধ করতে করতে মরেছিলো
ঈগল পাখির ডানা ভেণ্গে মাটিতে আছড়ে পড়ে মরেছিলো
কিন্তু তার স্বপ্ন একদিন সফল ও হয়েছিলো।

তাই শুনে রাখো হে নতুন
ঈগলপাখিকে চিনে রাখো
সেই ভয়ন্কর ঈগল পাখি কে বধ করেছিলো
বীরশ্রেষ্ট মতিউর শুধু তোমাদেরই জন্য....

Monday, March 28, 2011

বর্ণমালা - আ

পড়ো

আমটি আমি খাবো পেড়ে

অতঃপর সেই আম গাছে আমের মুকুল ফোটার আগেই
কিশোর আব্দুল গনি যুদ্ধে গিয়েছিলো
কারণ সে শুনেছিলো একটা আওয়াজ
সে শুনেছিলো একটা গর্জন
সে রেডিওতে একটা ভাষণ শুনেছিলো
এবং তারপর সে পালিয়ে যায়
এবং পালিয়ে সে যুদ্ধে যায়
এবং দলকে বাঁচাতে গিয়ে
সে ধরা পড়ে অজগর বাহীনির হাতে
এবং ধরা পড়ার পর
তাকে ছিড়ে খুঁড়ে খেতে চেয়েছিলো ওরা
ওদের নেতা ওকে লোভ দেখায়
এবং লোভ দেখিয়ে কাজ না হলে
ওরা আব্দুল গনিকে ভয় দেখায়
এবং ওরা আব্দুল গনিকে মারে
ওরা ওকে মারে পশুর মত
ওরা ওকে মারে কুকুরের মত এবং
একদিন গাছে ঝোলা টসটসে আমটা খাবার আগেই
একটা পানা পুকুরে ভেসে উঠেছিলো আব্দুল গনির লাশ
তাই আব্দুল গনি আর আমটা পেড়ে খেতে পারেনি
এবং খেতে পারেনি আব্দুল গনির মত অনেকেই
যারা মারা গিয়ে ছিলো জীবন বাজী রেখে
সেই যুদ্ধে।।

Sunday, March 27, 2011

বর্ণমালা ১

পড়ো
অ-
অজগর ঐ আসছে তেড়ে
কারণ মোরগ ডাকার আগেই
সমস্থ অজগর তেড়ে এসেছিলো বন্দরে
ওরা উড়ে এসে জুড়ে বসেছিলো
এবং ওরা হত্যা করেছিলো
আর তারপর উল্লাসে মেতেছিলো
আর উল্লাসে ওরা মেতেছিলো নগ্ন নারী দেহ নিয়ে
ওরা মেতে ছিলো হত্যার উল্লাসে তাই
হাতে উদ্যত রাইফেল-বেয়নেট
এবং মোরগ ডাকার আগেই
ওরা খুন করেছিলো হাজার হাজার মানুষ
কারণ ওদের চোখে সবাই ছিলো নিকৃষ্ট
সবাই ছিলো কাফির
এবং ওরা ধর্মের দোহায় দিয়ে মেরে ফেলল
গিলে খেল হাজার হাজার মোরগ
তাই মোরগ পরদিন ডাকতে পারেনি
অজগররা মোরগ গুলোকে খেয়ে ফেলেছিলো
তাই মোরগ গুলো তিনবার ডেকে উঠতে পারেনি
মোরগ গুলো তিনবার ডেকে ওঠেনি
তাই মোরগের মাংস-এবং মানুষ ওদের খাদ্য হয়েছিলো
দৃশ্যপরিচালনা কারীর অংগুলী হেলনে
ওরা খুন করেছিলো ২৫ তারিখ রাতে অজগরের মত
হে শিশু ভয় পাও সেই রাতের কথা কল্পনা করে
হে শিশু কল্পনা কর তুমি সেই রাতের কথা
হয়তো তোমার রক্তের ও একজন মরেছিলো সেদিন

কল্পনা করো
এবং ঘৃণা কর
ঘৃণা করো ওদের
কারণ ওরা হত্যাকারী
ওরা ধ্বংস কারী
ওরা মানুষরুপী অজগর...

উত্তর বিহীন প্রশ্ন

এর কোন উত্তর ছিলোনা কোনদিন
কেউ সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি
যখন যুদ্ধে ছেলে হারা নসিমন তার বুক চাপড়ে বলেছিলো
'' আমার ছাওয়াল রে ফিরায়ে দে তোরা
আমার ছাওয়াল রে তোরা কই রাইখে আসিছিস?"

আমি নিরুত্তর ছিলাম
হয়ত চোখের কোণে এক-দু ফোটা জল ও ছিলো
আমি কিন্তু সেদিন কাঁদিনি।।

এর পর তিন বসন্ত পেরিয়েই
বুড়ি গহর আলী জিজ্ঞেস করেছিলো
"অগো কাছে এত লাখ লাখ টেহা
আর আমার মায়াডা মরসে না খাতি পায়ে??"
আমি নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম সেদিন
মাথাটা হেট হয়েছিলো অধিক ওজনে
কিছু বলতে পারিনি
সান্তনা ও দিতে পারিনি সেদিন
কিন্তু আমি সেদিন ও কাঁদিনি।।

তারপর বহুদিন গেলে একদিন নিরুদাসের মেয়েটাকে
তুলে নিয়ে গিয়েছিলো কারা যেন
আমি দেখেও না দেখার ভান করেছিলাম
নিরুদাস রাতভর কেঁদে
সকালে গলায় ফাঁস পড়েছিলো
আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে ই বুঝেছিলাম
সেখানে আমার জন্য জমা হাজার প্রশ্ন
আমি কোন প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারিনি
কিন্তু আমার চোখ দিয়ে জল ও পড়েনি একফোটা।।

গেলো চৈত্র মাসে আমি রাস্তায় হাঁটছিলাম
মাথার ওপর প্রচন্ড রোদ
আর তখনই পাশ দিয়ে চলে গিয়েছিলো
মতি রাজাকারের পাজেরো
আমি চেয়ে চেয়ে দেখছিলাম
মুখে একদলা থু থু আসলে ও ফেলতে পারিনি
ঘৃণায় লজ্জায় এবার আমার কান্না এসে গেল
বুক চাপড়ে কেঁদেও একটা প্রশ্নের উত্তর পেলাম না
ওদের বিচার হবে কবে???
ওদের বিচার হবে কবে???

Wednesday, March 23, 2011

ঘাসফড়িং আমি কিনবা অন্যকিছু

রিপা -আমি হয়তো মানুষ নেই আর
তুমি চলে যাওয়ার পর-আমি হয়তো মানুষ নেই আগের মত
ঘাসফড়িং হয়ে গেছি নির্বিকার ভাবে
মানুষ হলে তোমাকে মনে পড়বে খুব
তাই আমি আর মানুষ নেই
মরা মাছের চোখ নিয়ে বর্ণিল পাখার ঘাসফড়িং হয়ে গেছি চট করে
মাথায় গোল্ডফিসের আত্মা নিয়ে আমি এখন দিব্যি আছি
তোমার কথা মনে পড়লেও ভুলে যাই মিনিটেই
আমার চারপাশে হাজারো ঘাসফড়িং এর মত
আমি হয়তো প্রজনন করিনা-কোনো ফড়িংরির বুকে মাথা রাখিনা
সুখে আৎকে উঠিনা কঠিন ভাবে
দুঃখে কেঁদে ভাসাইনা একুল ওকুল
সংগমে ক্লান্ত হইনা আগের মত
চিৎকার করে কাঁদিনা সবার মত

অন্য সব ঘাসফড়িং এর মত আমি হয়তো সত্যিকারের
ঘাসফড়িং ও হতে পারিনি
তবে বুকে হাত রেখে বলতে পারি রিপা-
আমি আর আগের মত মানুষ নেই
মানুষ থাকলে প্রতিদিন দুপেয়ে মানুষের মত চুমু খেতাম
প্রতিদিন যেতাম রন্গালয়ে-নুপুরের ঝংকার শুনতে
পুরোনো তানপুরার তারে ধুলো জমেছে দেখে মুখ বুঝে থাকতাম না
সামনে অভুক্ত মানুষ গুলোর দিকে ওপরতলার মানুষের শোষন দেখে
চুপ করে থাকতাম না
হয়তো এখন আমি টিকটিকির মত
সত্য কথা শুনলে ই টিকটিক করি
কিন্তু রিপা জেনে রেখো-আমি আর সেই আগের মত সংগ্রামী মানুষ নেই
যার কোলে মাথা রেখে তুমি শোনাতে ঘুমপাড়ানি গান
যাকে ভালবেসে তুমি সঁপে দিতে সমস্থ সংযম
যার ভালবাসার কাছে নতি স্বিকার করেছিলে ডাহুক পাখির মত
দিব্যি বলছি রিপা -আমি আর সেই মানুষটা নেই
আমি আজ শুধুই ঘাসফড়িং-আগে পিছে আজ কোন পদবি নেই....

Tuesday, March 22, 2011

জোছনা এলেই

জানি আমি এরকম ভাবেই সহজ হয়ে যাবো একদিন
তোমার চলে যাওয়া আমাকে কাঁদাবে না
আমি তোমার চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে থেকে
হবোনা কান্নার শিকার
সেই আগের মতো
আজকের মত জোছনা হলেই
এই আমি আর যাবোনা বনে
জোছনা এলেই বনে যেতে হয়না
জোছনার আলো লাল নীল হয়ে
পৌছাবে আমার দুয়ারে
আমি দুহাত তুলে ধরতে গিয়ে
হতবিহব্বল -অতঃপর নিরাশ হয়ে
দীর্ঘশ্বাস-এবং দীর্ঘশ্বাসে
উড়িয়ে দেব তোমাকে না পাওয়ার হতাশা

জোছনায় আমার তাই কিছুই যায় আসেনা
আমি জোছনা এলেই দোকলা হয়ে বনে যাবনা
জোছনা এলে ই সবাই বনে যায়
জোছনা এলে সবার মনে প্রেম জেগে ওঠে
জোছনা এলে সবার মনে কাম জেগে ওঠে
জোছনা এলে তাই সবাই বনে যায়
জোছনা এলে সবাই অতীব্র খুশিতে মেতে ওঠে আদিম খেলায়
আমার মনে প্রেম নেই
আমার মনে কাম নেই
আমার মনে তোমার দেহের প্রতি লিপ্সা নেই
আমার মনে তোমাকে হারাবার যন্ত্রনা নেই
আমার মনে তোমার জন্য নেই একশো আটটি নীল পদ্ম
আমি তোমাকে ভুলে গেছি
আমি তোমাকে ভুলে যেতে চাই
আমি তোমাকে নিয়ে জোছনা দেখতে চাইবনা
আমি তাই জোছনা এলেই
তাদের মত চলে যাবনা বনে
আমি এখন একা

একদিন তোমার কথা ভুলে গিয়ে এই আমি
পথ ভুলে আবার অমানুষ হয়ে উঠবোনা
একদিন তোমার কথা মনে এলেই
আমি লিখে যাবনা কবিতা কিনবা গান
একদিন তোমার কথা ভুলতে গিয়ে আমি
কেঁদে উঠবোনা শিশুর মতন
আমি চাই আমি একদিন তোমার হাতে টাইয়ের নট না বেঁধেই
রওনা দিব অফিসের পথে
আমি ভুল করে ও মনে করবোনা তোমাকে
আমি ভুল করে ও জোছনা এলেই
বনের পথে রওনা দেবার আশায়
তোমাকে ভুল করে ডেকে বসবোনা গভীর ঘুম থেকে

তবুও আমার সাথে স্বরযন্ত্র হয়
তবুও অষ্টমীর প্রহর গেলেই চাঁদেটা মেতে ওঠে জোছনা টেনে আনার স্বরযন্ত্রে
তবুও আমাকে ঘিরে মেতে ওঠে কবিতার পদাবলী
আমার বুকে ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ তুলে
বেজে ওঠে বিচ্ছেদী গান
আমি তবুও জোছনা এলেই প্রেমে মগ্ন জুটি দেখে
মনে করে ফেলি তোমার হারিয়ে যাওয়া
আমি নষ্ট হয়ে যাই
আমি নষ্ট হয়ে যাই ছিন্ন পাতার মত
শুধুই জোছনা দেখে.....

জোছনার সাধ মিটেছে

আকাশের বুকে আমি কত যে খুঁজেছি
ঐ কালো মেঘের কাছে ভিক্ষে চেয়েছি
পাইনি তাকে তবু তাকে কোন অকারনে
বুঝিনি আসবেনা সে এই জানালার কোণে
কবিতার লাইন গুলো হারিয়ে গেছে
চাঁদটা দখিন কোনে ডুবে গেছে

আমার জোছনার সাধ মিটেছে

ছিলো অকারন এই শহুরে জীবন
আধোঘুমে জাগরনে কঠিন শাসন
ঠোঁটের মায়ায় শুধু কাছে টেনে নেয়া
জীবনের চাওয়া পাওয়া জীবনকে দেয়া
একটু সময় নেই জোছনা দেখার
জোছনার বেলা তাই ফুরিয়ে গেছে
আমার জোছনার সাধ মিটেছে

আমার জোছনার সাধ মিটেছে

ব্যাস্ত হব না আমি পূর্ণিমাতে
রাখবোনা সেই হাত তোমার হাতে
হারাবোনা কবিতার কালসমারোহে
যান্ত্রিক নগরের জীবন প্রবাহে
থাকবে লোভের মোহ-দেহের পিছে
সময়ের পিছুটানে নগ্ন বিছে
আ্যস্ট্রেতে ফিল্টার হারিয়ে গেছে

তাই জোছনার সাধ মিটেছে..



I search for her in the cloudy sky

I begged the black cloud

They refused to show her

They also stole my poems

The moon also left away from northern sky



I have lost my desire to see the moonlit night



My urban life was painful

Life also became so dull

Kissing you is a pain you don’t feel

Then I became a slave in society

I didn’t get time to see the moon

And I have lost my desire to see the moonlit night

I wouldn’t hurry to see the moon

Wouldn’t put my hands on your hands

Wouldn’t write poems in that night

In that digital life

Time will make me a robot



And I would lost my desire to see the moonlit night



translated by kutub aftab



I searched for her in the abysmal openness of the sky

I begged for her to that dark cloud

No one gave her to me. Yet I don’t know why

I know she won’t come to my window and yet

My poem lost its verses

The moon lost herself in the south



I no longer long for moonlight



I no longer long for moonlight



I’ll not be busy with the full moon

I’ll not put those palms into yours

I’ll not get lost in the words of poems

Neither in the flow of mechanical city life

Where we allured, run after flesh

Time flies, scorpion bites

The remains of the cigarette filter is no more in the astray

And no longer long for moonlight



translated by hasinul islam...

একদিন আমি বাঁধনহারা হবোই

ছোটবেলায়-মনে আছে সেদিন
কত ইচ্ছে করেছিলো বেড়াতে যাব
দেখতে যাব চিড়ি্যা খানা
দেখতে যাব শিশুপার্ক
লেখা পড়া তাই জেঁকে বসেছিলো আমার মাথার উপর
মায়ের বকুনি আর স্যারের ব্যাতের ভয়ে ও কিছু বলিনি আমি
হয়তো বকুনিই খেতাম একটু
তবু ও বেড়াতে গেলে ভাল ই হত।

কত ইচ্ছে করত আইসক্রিম খাবো
কোণ আইসক্রিম-চকবার আরো কত কি....
আহা বাবার কাছে চাইতে গেলেই কষ্ট লাগত
নুন আনতে পান্তা ফুরোবার দিনে কি আর
আইসক্রিমের আবদার তোলা যায় মুখে?
তাই দুটাকা জমিয়ে লালনীল লেবেনচুষই ছিলো ভরসা।

ইচ্ছে ছিলো বড় হয়ে আমি প্রেম করবো
ভালবাসবো কোন এক অপরূপা নারীকে
ভালবাসবো আমার জীবন দিয়ে
কবিতা লিখবো
গান লিখবো
তারপর তার বুকে মাথা রেখে একদিন
মরে যাব নিশ্চিন্তে
ভালবেসেছি আমি -
কিন্তু ভালবাসা পেয়েছি কিনা জানিনা।

ইচ্ছে ছিলো পর্যটক হবো
ইচ্ছে ছিলো অনেক অনেক দেশে ঘুরে বেড়াবো
ধুষর নীল ফ্রান্কা থেকে অষ্ট্রিয়া
কিনবা কমডোর সেই দ্বীপের দেশে
পারিনি-অভাব আমাকে রোধ করেছে
সংসার আমাকে বেঁধে রেখেছে
পিছুটান আমাকে নিরাশ করেছে
তবুও
একদিন আমি বাঁধনহারা হবোই
এই সংসারটাকে পিছনে ফেলে রেখে
একদিন আমি বাঁধনহারা হবোই।।

আমি আজ হারিয়ে যাব

আমি আর থাকবোনা তোমার আঁচল জুড়ে
থাকবোনা তোমার ঐ মিষ্টি গানের সুরে
আমি আজ হারিয়ে যাব
লিখোনা আমাকে নিয়ে আর কোন কবিতা
দিওনা দুঃখ তুমি লিখে গল্পগাঁথা
আমি আজ হারিয়ে যাব

আমাকে নিয়ে তোমার যত অভিযোগ
বেলা অবেলায় প্রেম যত সম্ভোগ
ক্লান্ত হবেনা আর-সুখ চারিধারে
জীবনের প্রয়োজনে মোহ ঘুরেফিরে
তাই আমি কাটবোনা রাত্রি দুপুরে
আবোল তাবোল সুর তোমার ঐ চুলে
আমি আজ হারিয়ে যাব

আকাঁশের তারা গুলো নেই গেছে দুরে
চাঁদটা বড্ড একা বেহুলার সুরে
হিজলের বনে তাই জোছনার ত্রাস
আলোকিত চারিদিক যেন সন্ত্রাস
একটু জমাট আঁধার চাই শুধু তাই
হারাবার বেদনায় হৃদয়ের ছাই
তাই আমি আজ হারিয়ে যাব।।

সংলাপ: বাহে বাইচা আসি

-কেমুন আছো বাহে?
_ভালা আছি বাহে -বাঁইচা আসি
-তোমার মায়াডা কেমুন আছে?
_মইরা গেছে বিষ খায়া-
-ঐ শয়তান গুলারে তুমি শাস্তি দেওনের লাইগা কওনাই?
_মেম্বারের পোলারে কি কিছু কওন যায়? হেগো দেশ-হেগো রাজত্ব
-তোমার মায়ার ঈজ্জ্বত নিসে-তুমি কিছু কওনাই?
_বিচার দিসিলাম বাহে-বিচারে মিনুর শাস্তি হইসে
-কও কি? তোমার মিনুর ঈজ্জ্বত গেছে-এটা মিনুর দোষ?
_মিনু মা নাকি হের পোলারে লোভ দেখায়সে
-ছিঃ ছিঃ
_হায়.......
-ক্ষেতে ফসল কেমন উঠছে বাহে?
_ক্ষেত নাই-গেল বছর চেয়ারম্যান থেইকা কর্য নিসিলাম ঘরতোলার লাগি
_এই বছর আইসা আমার জমি দখল নিসে
-হায় হায় তুমি খাইতাস কি?
_বাইচা আছি বাহে-বাইচা আসি
-মিনুর মা কিভাবেই না মরল-তোমার কষ্ট লাগে নাই?
_হ বাহে-তবুও বাইচা আসি
-তোমার ছোট পোলায় নাকি বিয়া কইরা চইলা গেছে শহরে
-টেকা পয়সা কিছু দেয়না-তুমি চলতাস কেমনে?
_বাহে বাইচা আসি
-তোমার হালে গরুটারে ও তো চুরি কইরা বেইচা দিসে হারান শেখ
_হ বাহে তবুও বাইচা আসি
-তোমারে সদরে ভিক্ষা করতে দেখছিলো রতন্যা-এখন তুমি তা ও করনা
_হ বাহে বাইচা আসি
-তোমার বাম পা ডা ফুলসে বেশী-সেই যে যুদ্ধের সমে তুমি গুলি খাইসিলে
-হাটতে ও পারোনা-ভিক্ষা ও পাওনা-দিন কেমনে চলে বাহে?

_এইতো চলে-বাইচা আসি
-ঠিক আছে ভালা থাকিও-অহন গেলাম....
_হ বাহে- বাইচা থাকুম.........................

বসন্ত চলে যায়

বসন্ত চলে যায়-আমার ডালে তবুও কোন ফুল ফোটেনা
আমি মরা শালিকের মত -কোকিলের স্বরে ডাকতে গিয়ে
নিজেকে আবিষ্কার করি মরা চাতালের মত
এবং বসন্ত চলে যায়
বসন্ত চলে গেলে জানি গ্রীষ্মের তাপদাহে আমি আবার হিমান্ক হব
হিমান্কের নিচে আমি আমাকে
বরফের শীতলতার মাঝে আবিষ্কার করবো

এবং ততদিনে চারপাশে এসে ভিড় করবে বর্ষা
বর্ষা এলেই আমি নিজেকে গুটিয়ে নেব
কারণ জলের ধারা কবেই আমার শরীর থেকে
বেরিয়ে গেছে কান্না হয়ে
আমি তাই বৃষ্টি থেকে কান্না নেবো
কিন্ত আমার ডালে গজানো মরা পাতারা হেমন্তের কলরোলে
এসে থমকে দাঁড়াবে শুন্যতার কারণে
এবং তারপর সংগ্রাম
সংগ্রাম এলেই নিজেকে আমি আবিষ্কার করবো
শীতের সংসর্গ থেকে দুরে থাকা বিদেশী পাখির মত
আমি নিজেকে আড়াল করবো
মহাঘুমে আমি কাটিয়ে দেব শীতের সময় টুকু
অতঃপর অপেক্ষা শুধু বসন্তের
তারপর বসন্ত এলেই আমি তোমার অভাবে
মরা বৃক্ষের মত
হীমশীতল কাতরতার সাথে
কঠিনশীলার বুকে মাথা কুটে
তোমার নাম বার বার ডেকে যাব
তুমি শুনেও না শোনার ভান করবে
তুমি আমার কান্না দেখেই না দেখার ভান করবে
এবং তোমাকে আমার কষ্ট কোন ভাবেই নাড়া দেবেনা
এবং তুমি আসবেনা
আমি তোমার জন্য ফুল ফোটাতে নিয়ে আসবো
হিমালয় থেকে লু হাওয়া
আমি দিবিদিকজ্ঞানশুন্য হয়ে তোমাকে নিবেদন করবো
আমার সকল সুখের আকর
আমি শুন্য পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেব প্রাণ ও বীজ
আমি সকল মরুময়তার মাঝেও তোমার জন্য
শুধু তোমার জন্য বানিয়ে দেব কল্পতরু
কিন্ত হয়তো আমাকে উপেক্ষা করে
প্রতিবারের মত আগামীবার ও তুমি আসবেনা
এবং বসন্ত চলে গেলে ও আমার ডালে আর কোন দিন ফুল ফুটবেনা

Wednesday, March 9, 2011

হিসাব নিকাশ

কি? খাচ্ছো?
খাও-ইচ্ছে মত খাও
খেয়ে খেয়ে পেটটাকে ফুলিয়ে ঢোল করো
আমি ডুগডুগি বাজাবো-আমি ডম্বরু বাজাবো
আমার দেহের সমস্থ শক্তি তোমাদের চামড়ার উপর টেনে এনে
আমি ধপাস ধপাস ঢোল বাজাবো
আমাকে বিশ্বাস করো
আমাকে বিশ্বাস করো
আমি মিথ্যা বলিনা
আমি সত্যবাদি
আমি কখনোই মিথ্যা বলিনা
তুমি আজ খেয়ে যাও-
সমাজের সব তরূন যুবাদের মাথা খেয়ে যাও
সমাজের সমস্থ নারীদের উলন্গ শরীর খেয়ে যাও
শীর্ণকায় শিশুটার জমানো টাকা খেয়ে যাও
ভিখারীর থালা থেকে টাকা মেরে খেয়ে যাও
আমি তোমাদেকে কিছুই বলবোনা
আমি নির্বাক চেয়ে চেয়ে দেখবো কিভাবে তোমার দেহের ভেতর
জাল বিস্তার করবে আমার ঘৃণা
আমি চেয়ে চেয়ে দেখবো কিভাবে
তোমাদের চুলে নখে ঠোটে লেগে থাকবে আমার অভিশাপ
তোমাদের হৃদপিন্ডে র অলিন্দ-নিলয়ে জমে উঠবে জাহান্নামের চর্বি
তোমাদের মস্তিষ্কের কোষে কোষে
ছড়িয়ে পড়বে বিষাক্ত ক্যান্সার
আমি চেয়ে চেয়ে দেখবো
আমি শুধুই চেয়ে চেয়ে দেখবো
আমি সেই দিন পর্যন্ত চেয়ে চেয়ে দেখবো
যেদিন তোমার ক্ষুধা শেষ হয়ে যাবে
যেদিন তুমি কেঁপে উঠবে বদ হজমের ঠেলায়
সেদিন আমি তোমার পেটে পিঠে আঘাত করবো আমার ঘৃণা দিয়ে
সেদিন তুমি পার পাবেনা
সেদিন তোমাদেরকে কেউ বাঁচাতে পারবেনা
সেদিন আমি তোমাদেরকে কিছুতেই ছেড়ে দেবনা জনগনের হাতে
আমি নিজেই তোমাদেরকে হত্যা করবো
আমি নিজেই তোমাদেরকে ধ্বংস করবো
তার আগে কড়ায় গন্ডায় চুকিয়ে নেব আমার হিসাব...

খাচ্ছো?
খাও প্রাণ ভরে খাও
আমি তোমাকে হিসাবের আগ পর্যন্ত বাঁধা দিবোনা
কারণ আমি ভিক্ষের টাকা হারানো সেই পন্গু ভিখারীর কান্না দেখেছি
আমি দুবেলা আধপেটা খাওয়া শ্রমিকের ঘাম দেখেছি
আমি দেখছি সেই বেশ্যা মেয়েটা তোমাদেরই কাছেই বিসর্জন দিয়েছিলো
তার প্রথম সতীত্ব
আমি দেখেছি
আমি শুধুই দেখেছি
করতে পারিনি কিছুই
তাই অপেক্ষায় আছি
শুধু তোমার বদ হজমের অপেক্ষায় আছি...

Tuesday, March 1, 2011

একটি দেশ-সে দেশটির কিছু অভাগা -ও একটি রন্গমঞ্ছ


অতঃপর ওদের অপেক্ষার অবসান হয়
অতঃপর অতিথিরা এসে ভীড় করে প্রার্থিত রন্গমঞ্ছে
লাল নীল বাতি জ্বলে ওঠে সেখানে-আলোকিত হয় রন্গমঞ্ছ
ব্যাকগ্রাউন্ডে ধুমায়িত সংগীত বেজে ওঠে
ব্যাকগ্রাউন্ডে লালনীল সংগীত বেজে ওঠে
সবাই এতক্ষণ অধীর ভাবে বসে ছিলো
সবার বসে থাকার সময় শেষ হয়
সবার মনে আত্মতৃপ্তি আসে ফুরফুরে বসন্ত বাতাসের মত
চোখে চকচক করে নগ্ন উল্লাস
মুখে বার বার জপ করতে থাকে প্রাণপ্রিয় অতিথিদের নাম
একজন রন্গমঞ্ছে উঠে জানায়-
উনারা এসে পরেছেন-আপনারা শান্ত হয়ে বসুন
কারন উনারা জানেন-ওরা ধৈর্য ধরতে জানেনা
ওরা কখনোই ধৈর্য ধরতে জানেনা
ওরা এখন নগ্নতা দেখার জন্য এক একটা পশুর মত উল্লাস করে
সেই একজন রন্গমঞ্ছে উঠে আবার বলে-
উনারা এসে পরেছেন-আপনারা শান্ত হয়ে বসুন

অতঃপর উনারা এসে পড়েন
উনাদের আনতে কোটি টাকার উড়ালযান চলেগিয়েছিলো
উনারা এসেছেন ও কোটি টাকা কামাই করার জন্য
তাই-উনাদের অর্ভথনায় থাকে কোটি কোটি টাকা
উনাদের খাবার টেবিলে কোটি কোটি টাকা
উনাদের পোষাকে থাকে কোটি কোটি টাকা
উনাদের নাচে গানে ভেসে যায় কোটি কোটি টাকা

অতঃপর উনারা রন্গমঞ্ছে উঠে নাচ গান শুরু করেন
অতঃপর উনাদের নাচে গানে দোলা দেয় ওদের হৃদয়
একজন সালাম আকাশ থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে ওদের তামাশা দেখে
একজন বরকত ওদের দেখে ব্যাথিত হয়ে ওঠে
একজন রফিক ওদের কান্ড দেখে বিষ্মিত হয়
ওদের কে সবাই তিনদিন আগেই ফুল দিয়ে ছিলো বলেই
ওরা আরো বিষ্মিত হয়ে ওঠে
ওদের কথা কেউ মনে রাখেনা
তাই-যে মাসে ওরা মারা গিয়েছিলো
যে দিনে ওরা মারা গিয়েছিলো
ঠিক সেই মাসেই-সেই দিনের ঠিক তিন দিন পরেই
ফেব্রুয়ারীকে পদদলিত করে-আটই ফাল্গুনকে পদদলিত করে
ওরা রন্গমঞ্ছে নেচে ওঠে বিদেশী ভাষায়-

তাদের সাথে সাথে তাল মেলায় জনগন
আর তাদের সাথে তাল মেলায় কতিপয় উল্লাসকারী
তাদের সাথে তালমেলায় ২ বছরের শিশু
তাদের সাথে তাল মেলায় ২০ বছরের যুবক
তাদের সাথে তাল মেলায় ৬০ বছরের বৃদ্ধ
ওদের নাচে গানে ভরে ওঠে উৎসব
ওদের নাচে গানে মেতে ওঠে রন্গমঞ্ছ
ওরা একদৃষ্টিতে কামনা নিয়ে দেখতে থাকে শীলার যৌবন
ওরা নেচে নেচে শীলার যৌবন দেখে
ওদের লোলুপ মন শীলার যৌবন দেখে
রন্গমঞ্ছে উঠে শীলা ও নেচে গেয়ে টাকা নিয়ে যায়
সবার মনোরন্জন করে ওরা টাকা নিয়ে যায়
সবাই কে আনন্দ দিয়ে ওরা টাকা নিয়ে যায়
বাংলা ভাষাকে দলিত করে ওরা টাকা নিয়ে যায়
নিজেদের শরীর দেখিয়ে ওরা টাকা নিয়ে যায়

ওদিকে একটা টোকাই না খেয়ে দিন পার করে
একজন রাহেলা বেগম বিনা চিকিৎসায় মরে
একজন বিধবা ওষুধের অভাবে ধুঁকেধুঁকে মরে
একজন নুরুন্নেসা পথেঘাটে ধর্ষিতা হয়
ধর্ষন কারীরা নুরুন্নেসাকে সাময়িক শীলা মনে করে
নুরুন্নেসার কাপড় খুলে নিয়ে ওরা উল্লাস করে
ওরা ব্লাকলেভেল হাতে নিয়ে শীলার যৌবন নিয়ে উল্লাস করে
ওরা একজন নুরুন্নেসাকে পুনপুন ধর্ষন করে
আসল শীলার তাতে কিছুই আসে যায়না
আসল শীলা তখন রন্গমঞ্ছে যৌবন দেখাতে ব্যস্ত

আসলে শীলাদের এসবে কিছুই যায় আসেনা
নুরুন্নেসা গলায় দড়ি দিলে শীলাদের কিছুই যায় আসেনা
একজন রহমত মিয়া না খেয়ে মরে গেলে ওদের কিছু যায় আসেনা
একটা শিশু না খেয়ে মরলে ওদের কিছু যায় আসেনা
ওরা শুধু টাকা চেনে
ওরা তাই টাকার জন্য বিনোদন দেয়
রন্গমঞ্ছে লালনীল আলোতে ওরা বিনোদন দিতে নেচে ওঠে
আর বান্গাল রা শীলার কোমড়ের দুলুনির তালে তালে নেচে ওঠে
সালাম বরকতের মৃত্যুতে ওদের কিছু আসে যায় না
বাংলা পদদলিত হলেও ওদের কিছুই আসে যায়না
ওরা শুধু মনোরন্জন করে নেচে ওঠে...